আয়নাঘরের বিভীষিকা: ড. ইউনূসের পরিদর্শনে উঠে এল ভয়াবহ নির্যাতনের চিত্র
বাংলাদেশের আলোচিত ‘আয়নাঘর’ এখন মানবাধিকার লঙ্ঘনের এক ভয়াবহ প্রতীকে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে গোপন এই বন্দিশালায় মানুষকে আটক রেখে অকথ্য নির্যাতন চালানো হতো। সম্প্রতি এই অন্ধকার জগতের দরজা উন্মুক্ত হওয়ার পর সেখানে পরিদর্শনে যান বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার ভাষায়, “এটি বিভৎস দৃশ্য।”

ড. ইউনূস যা দেখলেন
পরিদর্শনের পর ড. ইউনূস বলেন, “এখানে যে ধরনের নির্যাতন হয়েছে, তা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। মানুষকে দিনের পর দিন আটকে রেখে তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছে।” তিনি ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা শোনেন।
ভুক্তভোগীদের হৃদয়বিদারক বর্ণনা
ভুক্তভোগীদের একজন কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “চিৎকার না থামানো পর্যন্ত মারতে থাকতো। আমাদের চোখ বেঁধে রাখা হতো, দিনের পর দিন খাবার না দিয়ে নির্যাতন করা হতো।” আরও অনেকে জানিয়েছেন, তাদের স্বজনদের কোনো খোঁজ দেওয়া হয়নি, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সব পথ বন্ধ ছিল।

আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া
ড. ইউনূসের এই পরিদর্শন শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, “আয়নাঘরের ভয়াবহতা একটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যু হওয়া উচিত।” তারা দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়েছে।
এখন করণীয় কী?
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এমন নির্যাতন কেন্দ্র আর না গড়ে ওঠে। একইসঙ্গে গণমাধ্যম ও সাধারণ নাগরিকদের সোচ্চার হতে হবে, যেন সত্য প্রকাশিত হয় এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।
📢 আপনার মতামত দিন!
এই ঘটনার বিরুদ্ধে আমাদের কী করা উচিত? কমেন্ট করুন এবং শেয়ার করুন, যাতে সত্য সবার সামনে আসে!